বাংলা পয়গাম
https://poygambd.blogspot.com/2023/02/Matrbhasa%20jumara%20khutaba.html
মাতৃভাষা জুমার খুতবা দেওয়ার বিধান।
সুন্নাতের আলোকে জুমুআর খুতবা জুমুআর সালাত ও খুতবার বিষয়ে আল্লাহর নির্দেশ:
يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا إِذَا نُودِي للصَّلاةِ مِن يَوْم الْجُمُعَةِ فَاسْعَوْا إِلَى ذِكْرِ اللَّهِ সূরা জুমু'আ: ৯ আয়াত ।
“হে ঈমানদারগণ, যখন জুমু'আর দিনে সালাতের জন্য আহ্বান করা হয়, তখন তোমরা আল্লাহর যিক্র- এর দিকে ধাবিত হও।"
“যিকর” অর্থ স্মরণ করা বা স্মরণ করানো। এখানে "আল্লাহর যিক্র" বলতে কি বুঝানো হয়েছে সে বিষয়ে কয়েকটি মত রয়েছে। কেউ বলেছেন এখানে যিকর বলতে জুমুআর সালাত বুঝানো হয়েছে, কেউ বলেছেন, যিকর বলতে জুমুআর খুতবা বুঝানো হয়েছে এবং কেউ বলেছেন, সালাত ও খুতবা উভয়কেই বুঝানো হয়েছে। আল্লামা কুরতুবী বলেন: 'আল্লাহর যিক্র অর্থ সালাত। সাঈদ ইবনু জুবাইর ও অন্যান্যরা বলেছেন: আল্লাহর যিকর অর্থ খুতবা ও ওয়ায়।”তাফসীরে কুরতুবী ১৮/১০৭।
ইমাম তাবারী বলেন:
أما الذكر الذي أمر الله تبارك وتعالى بالسعي إليه عباده المؤمنين فإنه موعظة الإمام في خطبته. .. مجاهد ... سعيد بن المسيب .... إلى ذكر الله ... فهي موعظة الإمام
“মহান আল্লাহ যে যিকরের দিকে ধাবিত হতে নির্দেশ দিয়েছেন তা হলো খুতবার মধ্যে । ইমামের ওয়ায..... সাঈদ ইবনুল মুসাইয়িব ও মুজাহিদ বলেন, আল্লাহর যিকর হলো ইমামের ওয়ায ।তাবারী, আত-তাফসীর ২৮/১০২।
হানাফী মযহাবের অন্যতম ফকীহ ও মুফাসসির আল্লামা আবু বকর জাসসাস (৩৭০ হি)
বলেন :
دَل عَلَى أَنَّ هُناك ذكرًا واجبًا يَجبُ السَّعْيُ إِلَيْهِ َوقَالَ ابْنُ الْمُسَيِّب: ذكر الله: مَوْعِظَةَ الإمام‘
এই আয়াত দ্বারা প্রমাণিত হলো যে, জুমুআর দিনে একটি যিকর রয়েছে যার জন্য ধাবিত হওয়াও য়াজিব, আর সাঈদ ইবনুল মুসাইয়িব বলেছেন যে, এ যিকর হলো ইমামের ওয়ায ।আবু বকর জাসসাস, আহকামুল কুরআন ৩/৪৪৬।
" প্রসিদ্ধ তাবিয়ী আতা ইবনু আবী রাবাহ রাসূলুল্লাহ ও সাহাবীগণের খুতবা সম্পর্কে বলেন: খুতবাতুল ইসলাম
إنما كانت الخطبة تذكيرا
"খুতবা তো ছিল শুধু “তাকীর" অর্থাৎ যিকর বা স্মরণ করানো বা ওয়ায করা।বাইহাকী, আস-সুনানুল কুবরা ৩/২১৭।
এ দ্বিতীয় ব্যাখ্যাটিই সঠিক বলে প্রতীয়মান হয়। কারণ প্রথমত, কুরআন, হাদীস ও সাহাবীগণের পরিভাষায় বিশেষ করে ওয়ায় আলোচনাকে "যি" বা আল্লাহর যিকর বলে উল্লেখ করা হয়েছে। সাহাবী- তাবেয়ীগণের যুগে ওয়ায নসীহতের মাজলিসকে যিকরের মাজলিস বলা হতো। দেখুন তাফসীরে তাবারী ৯/১৬৩, তাফসীরে ইবনু কাসীর ২/২৮২।
দ্বিতীয়ত, রাসূলুল্লাহ ﷺ সুস্পষ্টভাবে যিকর বলতে খুতবা বুঝিয়েছেন।
তিনি বলেন:
إِذَا كَانَ يَوْمُ الْجُمُعَةِ وَقَفَتْ الْمَلائِكَةُ عَلَى بَابِ الْمَسْجِدِ يَكْتُبُونَ الأَوَّلَ فَالْأَوَّلَ ... فَإِذَا خَرَجَ الْإِمَامُ طَوَوْا صَحْفَهُمْ وَيَسْتَمِعُونَ الذِّكْرَ. وفي لفظ : فَإِذَا خَرَجَ الإِمَامُ حَضَرَتْ الْمَلَائِكَةُ يَسْتَمِعُونَ الذِّكْرَ
“জুমুআর দিন হলে ফিরিশতাগণ মসজিদের দরজায় দাঁড়িয়ে যান, কে আগে প্রবেশ করে তা একের পর এক লিখতে থাকেন ..... আর যখন ইমাম বেরিয়ে আসেন তখন তারা তাদের কাগজগুলি গুটিয়ে ফেলেন এবং মনোযোগ দিয়ে যিকর শুনতে থাকেন। * বুখারী, আস-সহীহ ১/৩০১, ৩১৪; মুসলিম আস-সহীহ ২/৮৫।
"" এখানে যিকর বলতে খুতবা ও ওয়ায বুঝানো হয়েছে। জাবির ইবনু সামুরা (রা) বলেন:
كانت للنَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ خُطْبَتَانِ يَجلس بَيْنَهُمَا يَقْرَأُ الْقُرْآنَ وَيُذَكِّرُ النَّاسِ
"রাসূলুল্লাহ দুটি খুতবা দিতেন, এতদুভয়ের মাঝে বসতেন, তিনি কুরআন পাঠ করতেন এবং মানুষদেরকে যিক্র বা স্মরণ করাতেন অর্থাৎ ওয়ায করতেন।মুসলিম, আস-সহীহ ২/৫৮৯।
" এখানেও “যিকর” করানো বলতে ওয়ায় করা বা স্মরণ করানো বুঝানো হয়েছে। অন্যান্য হাদীসে রাসূলুল্লাহ খুতবাকে ওয়ায় বলে আখ্যায়িত করেছেন।
এক হাদীসে তিনি বলেন:
ولم يلغ عند الموْعِظَةِ كَانَتْ كَفَّارَةً لِمَا بَيْنَهُمَا مَنْ اغْتَسَلَ يَوْمَ الْجُمْعَة
“যদি কেউ জুমুআর দিনে গোসল করে..... ওয়াযের সময় কথা না বলে, তবে দুই জুমুআর মধ্যবর্তী সময়ের জন্য পাপের মার্জনা করা হবে।.....আবূ দাউদ, আস-সুনান ১/৯৫; ইবনু খুযাইমা, আস-সহীহ ৩/১৫৬; আলবানী, সহীহুত তারগীব ১/১৭৬। হাদীসটি হাসান
উপরের আয়াত ও হাদীসগুলির আলোকে একথা সুস্পষ্ট যে, জুমুআর দিনের মূল ফরয দায়িত্ব হলো আযানের সঙ্গে সঙ্গে 'আল্লাহর যিক্র"-এর দিকে ধাবিত হওয়া। আর আল্লাহর যিকর বলতে এখানে "তায়কীর " বা ওয়ায আলোচনা ও খুতবা বুঝানো হয়েছে। এখানে ইমাম এবং মুসল্লীবৃন্দ সকলেরই ফরয দায়িত্ব "যি"। ইমামের যিকর হলো “তাকীর” অর্থাৎ যিকর করানো বা ওয়াযের মাধ্যমে আল্লাহর দীন, বিধান, জান্নাত, জাহান্নাম ইত্যাদি সম্পর্কে মুসল্লীদের স্মরণ করানো। আর মুসল্লীদের যিকর হলো “তাযাক্কুর”, অর্থাৎ ইমামের বক্তব্য থেকে আল্লাহর দীন, বিধান, জান্নাত, জাহান্নাম ইত্যাদির কথা স্মরণ করা।
আর এ যিকর পরিপূর্ণভাবে পালনের জন্যই রাসূলুল্লাহ মুসল্লীদেরকে নির্দেশ দিয়েছেন আগে আগে মসজিদের গমন করতে, ইমামের নিকটবর্তী হয়ে বসতে এবং সম্পূর্ণ নীরবে মনোযোগের সাথে ইমামের আলোচনা শ্রবণ করতে। এ বিষয়ক অনেকগুলি হাদীস জুমাদাল উলা মাসের দ্বিতীয় খুতবায় জুমুআর দিন ও জুমআর সালাত প্রসঙ্গে উল্লেখ করেছি। এ যিকরে রাসূলুল্লাহ -এর সুন্নাত হৃদয়গ্রাহী ওয়ায পেশ করা। জাবির ইবনু আব্দুল্লাহ (রা) বলেন:
إِن رَسُولَ اللَّهِ إِذا خطب احمرت عيناه وعلا صوتُهُ واشتد غضية حتى كأنه منذر بَعْدَ فَإِنَّ ، ويَقُولُ يُعتُ أنا والساعة كهاتين ويقرن بين إصبعيه السبابة والوسطى ويقول الحديث كتاب الله وخير الهدى هدى محمد وشر الأمور محدثاتُهَا وَكُل بدعة ضلالة
“রাসূলুল্লাহ যখন খুতবা দিতেন তখন তাঁর চক্ষুদ্বয় লাল হয়ে যেত, তাঁর কণ্ঠস্বর উঁচু হতো এবং তাঁর ক্রোধ কঠিন হতো। এমনকি মনে হত তিনি যেন আসন্ন শত্রুসেনার আক্রমনের সতর্ককারী। মধ্যমা ও তর্জনী একত্রিত করে বলতেন আমি এবং কিয়ামত এরূপ একত্রিত হয়ে প্রেরিত হয়েছি। এবং তিনি .....তিনি তাঁর বলতেন: সর্বোত্তম কথা আল্লাহর কিতাব এবং সর্বোত্তম রীতি-আদর্শ মুহাম্মাদের রীতি-আদর্শ। আর নব উদ্ভাবিত বিষয়গুলিই সর্বনিকৃষ্ট এবং সকল বিদ'আতই বিভ্রান্তি।মুসলিম, আস-সহীহ ২/৫৯২।
" জাবির ইবনু সামুরা (রা)-কে প্রশ্ন করা হয় রাসূলুল্লাহ -এর খুতবা কেমন ছিল? তিনি বলেন:
كانت قصدًا كلامًا يعظُ به الناس ويقرأ آيات من كتاب الله تَعَالَى
"তাঁর খুতবা ছিল নাতিদীর্ঘ। কিছু কথা বলে মানুষদের ওয়ায করতেন এবং কুরআনের কিছু আয়াত পাঠ করতেন।"আহমদ, আল-মুসনাদ ৫/৯৯, হাকিম, আল-মুসতাদরাক ১/৪২৩। হাকিম ও যাহাবী হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন।
তাবিয়ী সিমাক ইবনু হারব বলেন, সাহাবী নুমান ইবনু বাশীর (রা) খুতবার মধ্যে বলেন,
سمعت رسول الله يخطب يقول الذرتُكُمُ النَّار الدرتْكُمُ النَّار الذرتُكُمُ النَّارَ حَتَّى لَوْ أَن رَجُلا كان بالسوق السمعة من مقامي هذا قال حتى وقعت خميصة كانت على عاتقه عند رجليه
“আমি শুনলাম, রাসূলুল্লাহ খুতবায় বললেন: আমি তোমাদেরকে জাহান্নাম থেকে সতর্ক করছি! আমি তোমাদেরকে জাহান্নাম থেকে সতর্ক করছি। আমি তোমাদেরকে জাহান্নাম থেকে সতর্ক করছি।" তাঁর কণ্ঠস্বর এত উচ্চ ছিল যে, যদি কোনো ব্যক্তি বাজারে বসে থাকত তাহলেও আমার এখান থেকে বললে শুনতে পেত। এমনকি তাঁর কাঁধের উপর যে চাদরটি ছিল তা তাঁর পায়ের কাছে পড়ে যায়।আহমদ, আল-মুসনাদ ৪/২৬৮; হাকিম, আল-মুসতাদরাক ১/৪২৩; হাইসামী, মাজমাউয যাওয়াইদ ২/১৮৮। হাদীসটি
অন্য হাদীসে আলী (রা) বলেন,
كَانَ رَسُولُ الله يَخطُيَنَا فَيُذكرنا بأيَّام الله حتى تعرف ذلكَ فِي وَجْهِهِ وَكَأَنَّهُ نَذِيرُ قَوْمٍ
রাসূলুল্লাহ আমাদেরকে খুতবা দিতেন, তখন তিনি আমাদেরকে আল্লাহর দিবসগুলির যিকর করাতেন, অর্থাৎ ওয়াযের মাধ্যমে আল্লাহর পুরস্কার ও শাস্তির ঘটনাগুলি আমাদের স্মরণ করাতেন। এমনকি তাঁর মুবারক চেহারায় আমরা তা বুঝতে পারতাম। যেন তিনি আসন্ন শত্রু হামলা সম্পর্কে সতর্ক করছেন।হাইসামী, মাজমাউয যাওয়াইদ ২/১৮৮। হাদীসটি সহীহ।
উপরের হাদীসগুলি থেকে আমরা জানছি যে, রাসূলুল্লাহ -এর খুতবার অন্যতম বৈশিষ্ট্য ছিল তা ছিল। নাতিদীর্ঘ এবং মূলত কুরআন ভিত্তিক। বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন সূরা পাঠ করে করে তিনি ওয়ায করতেন বলে আমরা হাদীস শরীফ থেকে জানতে পারি। সূরা কাফ ও আখিরাত বিষয়ক সূরাগুলি তিনি বেশি পাঠ করতেন বলে জানা যায়। মহিলা সাহাবী উম্মু হিশাম (রা) বলেন:
ف والقُرْآن المجيد الا عن لسان رسول الله يقرؤها كُلَّ يَوْمَ جَمَعَة على المنير إِذا مَا أُخَذْتُ ق خَطَبَ النَّاس
"আমি তো সূরা কাফ (কুরআনের ৫০ নং সূরা) শুধু রাসূলুল্লাহ -এর যবান থেকে শুনে শুনেই মুখস্থ করেছি: কারণ তিনি প্রতি জুমুআয় খুতবা দেওয়ার সময় মিম্বারের উপর এ সূরাটি পাঠ করতেন।মুসলিম, আস-সহীহ ২/৫৯৫।
উবাই ইবনু কাব (রা) বলেন,
إِنْ رَسول الله ﷺ قرأ يَوْمَ الْجُمُعة تبارك وَهُوَ قَائِمٌ فَذَكَرَنَا بِأَيَّامِ اللَّهِ
"জুমুআর দিন খুতবায় দাঁড়িয়ে রাসূলুল্লাহ সূরা (তাবারাকা) পাঠ করলেন অতঃপর আমাদেরকে আল্লাহর দিবসসমূহের বিষয়ে স্মরণ করালেন বা ওয়ায করলেন।ইবনু মাজাহ, আস-সুনান ১/৩৫২; বৃসীরী, মিসবাহু যুজাজাহ ১/১৩৪। হাদীসটির সনদ সহীহ।
পরবর্তীকালে খুলাফায়ে রাশেদীন ও সাহাবীগণ এভাবে প্রতি জুমুআয় কুরাআনের আয়াত ও হাদীসের আলোকে বিভিন্ন ভাবে বিভিন্ন বিষয়ে মুসল্লীদেরকে সজাগ ও সতর্ক করতেন।বুখারী, আস-সহীহ ১/৩৬৬; বাইহাকী, আস-সুনানুল কুবরা ৩/২১১-২১৫।
খুতবার মধ্যে উপস্থিত মুসল্লীদের জন্য সাধারণ ওয়ায ছাড়াও ব্যক্তিগতভাবে কোনো কোনো মুসল্লীকে ডেকে প্রয়োজনীয় দিক নির্দেশনা দেওয়াও রাসূলুল্লাহ -এর সুন্নাতের অংশ। জাবির (রা) বলেন:
جاء رجل وَالنَّبِيُّ ﷺ يَخْطُبُ النَّاسَ يَوْمَ الْجُمُعَةِ فَقَالَ أَصَلَّيْت يا فلان قَالَ لَا قَالَ قُمْ فَارْكَعُ رَكْعَتَيْنِ
রাসূলুল্লাহ জুমুআর দিনে খুতবা দিচ্ছিলেন, এমতাবস্থায় এক ব্যক্তি মসজিদে প্রবেশ করল। তখন তিনি তাকে বলেন, হে অমুক, তুমি কি সালাত আদায় করেছ? লোকটি বলে: না। তিনি বলেন, তাহলে উঠে দু রাকাত সালাত আদায় করে নাও।”বুখারী, আস-সহীহ ১/৩১৫।
অন্য হাদীসে জাবির (রা) বলেন,
أبْصَرَ النَّبِيُّ ابْن مَسْعُود خارجاً من المَسجِدِ وَالنَّبِيُّ ﷺ يَخْطُبُ فَقَالَ تَعَالَ يَا عَبْدَ اللَّهِ بْن مَسْعُود.
রাসূলুল্লাহ খুতবা দেওয়ার সময় দেখেন যে, ইবনু মাসউদ (রা) মসজিদের বাইরে বসে রয়েছেন। তিনি তখন বলেন, হে আব্দুল্লাহ ইবনু মাসউদ, এগিয়ে আসুন।বাইহাকী, আস-সুনানুল কুবরা ৩/২০৬; আবূ দাউদ, আস-সুনান ১/২৮৬: হাকিম, আল-মুসতাদরাক ১/৪২৩। হাদীসটিকে সহীহ।
তাবিয়ী কাইস ইবনু আবূ হাযিম বলেন, তাঁর পিতা আবূ হাযিম বলেন:
أَنَّهُ جَاءَ وَرَسُولُ الله صلى الله عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَخْطُبْ فَقَامَ في الشَّمْس فَأَمَرَ بِهِ فَحُوِّلَ إِلَى الظَّلِّ
“রাসূলুল্লাহ ﷺ খুতবা দিচ্ছিলেন এমন সময় তিনি মসজিদে আগমন করেন । তখন তিনি রোদ্রেই দাঁড়িয়ে পড়েন। তখন রাসূলুল্লাহ তাকে নির্দেশ দেন ছায়ায় সরে যাওয়ার জন্য ।আবূ দাউদ, আস-সুনান ৪/২৫৭; আহমদ, আল-মুসনাদ ৩/৪২৬; বাইহাকী, আস-সুনানুল কুবরা ৩/২৩৬। হাদীসটি সহীহ 1
"" আব্দুল্লাহ ইবনু বুসর (রা) বলেন,
جَاءَ رَجُلٌ يَتَخَطَّى رقاب النَّاسِ يَوْمَ الْجُمُعَة وَالنَّبيُّ ﷺ يَخْطُبُ فَقَالَ لَهُ النَّبيُّ اجلس فقد آذيت و آنيت
রাসূলুল্লাহ ﷺ খুতবা দিচ্ছিলেন, এমন সময় একব্যক্তি মানুষের ঘাড়ের উপর দিয়ে আসছিল। তখন তিনি তাকে বলেন: তুমি বসে পড়, তুমি তো দেরি করে এসেছ আবার মানুষকে কষ্ট দিচ্ছ।* আবূ দাউদ, আস-সুনান ১/২৯২; হাকিম, আল-মুসতাদরাক ১/৪২৪; আলবানী, সহীহুত তারগীব ১/১৭৫। হাদীসটি সহীহ। অন্য হাদীসে বুরাইদা (রা) বলেন:
كَانَ رَسُولُ الله يَخْطُبُنَا إِذْ جَاءَ الْحَسَنُ وَالْحُسَيْن عَلَيْهما قميصان أحْمَرَانِ يَمْشِيَان وَيَعْثُران فَنَزَلَ رَسُولُ الله لا من المنبرِ فَحَمَلَهُما وَوَضَعَهُمَا بَيْنَ يَدَيْهِ ثُمَّ قَالَ صَدَقَ اللَّهُ: إِنَّمَا أَمْوَالُكُمْ وَأَوْلَادُكُمْ فتنةً، فَنَظَرْتُ إلى هذين الصبيين يمشيان ويَعْثُرَانِ فَلَمْ أصْبرْ حَتَّى قَطَعْتُ حَديثي وَرَفَعْتُهُما
"রাসূলুল্লাহ ﷺ আমারেদকে খুতবা দিচ্ছিলেন, এমতাবস্থায় হাসান ও হুসাইন (রা) আসলেন। তাদের গায়ে ছিল দুটি লাল জামা। শিশু দুজন টলমল করে হাঁটছিলেন এবং পড়ে যাচ্ছিলেন। তখন রাসূলুল্লাহ মিম্বার থেকে নেমে তাদেরকে কোলে নেন এবং তাঁর সামনে বসান। এরপর তিনি বলেন: আল্লাহ সত্য বলেছেন: “তোমাদের সম্পদ ও সন্তান তোমাদের জন্য ফিতনা।” আমি এ দু শিশুর টলমল করে হাটা ও পড়ে যাওয়া দেখে ধৈর্য ধরতেপারলাম না, এজন্য আমি আমার কথা বন্ধ করে এদেরকে তুলে আনলাম।” তিরমিযী ৫/৬৫৮; আবূ দাউদ, ১/২৯০: নাসাঈ, ৩/১০৮, ১৯২; ইবনু মাজাহ, ২/১১৯০; হাকিম, আল-মুসতাদরাক ১/৪২৪। হাদীসটি সহীহ।
এরূপ আরো অনেক হাদীস থেকে আমরা দেখতে পাই যে, রাসূলুল্লাহ খুতবা থামিয়ে ব্যক্তিগতভাবে বা সামষ্টিকভাবে মুসল্লীদেরকে অন্য প্রসঙ্গে কিছু বলে আবার খুতবা শুরু করতেন। পরবর্তী সময়ে খুলাফায়ে রাশেদীন ও সাহাবীগণও এরূপ করতেন। আব্দুল্লাহ ইবনু উমার (রা) বলেন:
إِنْ عُمَرَ بْنَ الْخَطَّابِ بَيْنَمَا هُوَ قَائِمٌ فِي الْخُطْبَةِ يَوْمَ الْجُمُعَةِ إِذْ دَخَلَ رَجُلٌ مِنْ الْمُهَاجِرِينَ الْأُولِينَ من أَصْحَابِ النَّبِيِّ ﷺ فَنَادَاهُ عُمَرُ أَيَّةُ سَاعَة هَذهِ قَالَ إِنِّي شَعَلْتُ فَلَمْ أَنْقَلِبْ إِلَى أَهْلِي حَتَّى سَمِعْتُ التَّأْذِينَ فَلَمْ أَرَدْ أَن تَوَفَّاتُ فَقَالَ وَالْوَضوء أَيْضًا وَقَدْ عَلَمْتَ أَنَّ رَسُولَ اللَّه ﷺ كَانَ يَأْمُرُ بِالْغُسْلِ.
একদিন উমার (রা) খুতবা দিচ্ছিলেন। এ সময়ে প্রথম অগ্রবর্তী মুহাজিরদের একজন মসজিদে প্রবেশ করেন। উমার (রা) খুতবা থামিয়ে বলেন, এ কোন সময় হলো? (এত দেরি হলো কেন?) আগন্তুক বলেন, কাজে ব্যস্ত হয়ে পড়েছিলাম, আযান শুনে বাড়ি এসে ওযূ করেই চলে এসেছি। উমার (রা) বলেন: শুধু ওযূ করে?অথচ আপনি জানেন যে, রাসূলুল্লাহ জুমুআর দিনে গোসল করতে বলেছেন। বুখারী, আস-সহীহ ১/৩০০, ৩১৫
এভাবে আমরা দেখছি যে, কুরআন ও সুন্নাতের আলোকে খুতবার মূল তিনটি বিষয় রয়েছে: (১) আযানের পরে দুটি খুতবা, (২) দুটি খুতবার মধ্যে উত্তেজনা ও আবেগ দিয়ে মুসল্লীদের অন্তরে প্রভাব ফেলার মত ও তাদের সংশোধন করার মত যিকর ও তাকীর বা ওয়ায আলোচনা এবং (৩) খুতবার ওয়ায-আলোচনা আরবীতে করা; কারণ রাসূলুল্লাহ সাহাবীগণ তা আরবীতেই করেছেন।

0 Comments
দয়া করে নীতিমালা মেনে মন্তব্য করুন